
বলিউড অভিনেত্রী মেয়েকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্লক করলেন বাবা
২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৪১
নিউজ ডেস্ক
সাবেক স্ত্রী ও অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারির বিরুদ্ধে নতুন করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেতা রাজা চৌধুরী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাদের অতীত বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খোলার পাশাপাশি বলিউড অভিনেত্রী মেয়ে পলক তিওয়ারির সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি।
বিয়ের সময় নিজেকে কেবল ‘বিনা বেতনের গৃহকর্মী’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন রাজা। একই সঙ্গে তিনি জানান, মানসিকভাবে নিজেকে শান্ত রাখতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মেয়ে পলককেও ব্লক করে রেখেছেন তিনি।
একটি সাক্ষাৎকারে রাজা জানান, তাদের দাম্পত্যজীবনের শুরুর দিকে উপার্জনের মূল দায়িত্ব সামলাতেন শ্বেতা, আর ঘরের যাবতীয় ব্যবস্থাপনা থাকত তার ওপর। রাজার কথায়, শ্বেতা প্রচুর অর্থ উপার্জন করতেন আর তিনি কাজ করতেন একজন সাধারণ ম্যানেজারের মতো, যার কোনো মূল্যায়ন ছিল না। সম্পর্কের এই তিক্ততা এবং বিচ্ছেদের জন্য শ্বেতার মায়ের হস্তক্ষেপকেও দায়ী করেন রাজা। তার দাবি, শ্বেতার মা-ই তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন এবং শ্বেতাকে বোঝাতেন যে তার জীবনে রাজার কোনো অবদান বা প্রয়োজন নেই।
বিচ্ছেদের পর জীবন যে কতটা কঠিন হয়ে পড়েছিল, সে কথা বলতে গিয়ে রাজা জানান যে তিনি তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগেছেন। মেয়েকে দেখতে না পাওয়ার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি অতিরিক্ত মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তাকে রিহ্যাবেও চিকিৎসা নিতে হয়। তিনি জানান, পলকের আট বছর বয়স পর্যন্ত তিনি তাকে প্রতিপালন করেছিলেন, কিন্তু গত ১৮ বছরে তাদের মধ্যে মাত্র দুই থেকে তিনবার কথা হয়েছে। নিজের পুরোনো স্মৃতির কষ্ট এড়াতেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়েকে ব্লক করে রেখেছেন, যাতে পলকের কোনো ছবি বা ভিডিও তার সামনে না আসে।
পলক তিওয়ারির ব্যক্তিগত জীবন এবং ইব্রাহিম আলি খানের সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাজা বেশ উদাসীন মনোভাবই প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তিনি এখন পলকের জীবনে কেবল একজন ‘বায়োলজিক্যাল ফাদার’ বা জন্মদাতা বাবা ছাড়া আর কিছুই নন, তাই পলকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যথা নেই।
তবে এত দূরত্ব এবং বিবাদের পরও মেয়ের প্রতি দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যাননি বলে দাবি করেন রাজা চৌধুরী। তিনি জানান, পলক তাকে কোনো দিন নিজের জীবনে জায়গা না দিলেও বা বাবা বলে না মানলেও, পলকের যদি কখনো তার প্রয়োজন হয় তবে তিনি দ্বিধা না করে পাশে দাঁড়াবেন। গভীর রাতেও যদি পলক কোনো বিপদে পড়ে তাকে ফোন করে, তবে তিনি সব কিছু ছেড়ে মেয়ের পাশে গিয়ে উপস্থিত হবেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে শ্বেতা তিওয়ারি ও রাজা চৌধুরীর বিয়ে হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজা চৌধুরীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা, মদ্যপান ও উত্ত্যক্ত করার মারাত্মক অভিযোগ এনে ২০০৭ সালে আলাদা হয়ে যান শ্বেতা এবং ২০১২ সালে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে সালমান খানের ‘কিসি কা ভাই কিসি কি জান’ ছবির মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখেন পলক তিওয়ারি। এরপর তিনি ‘রোমিও এস৩’, ‘দ্য ভূতনি’ ছবিগুলোতে অভিনয় করেন। সম্প্রতি অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর ‘লুকখে’ নামক একটি জনপ্রিয় মিউজিক্যাল থ্রিলার ওয়েব সিরিজে তাকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে।