শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ফেসবুকে আশিক চৌধুরীর মন্তব্য ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০০:২৬ | আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০০:২৬

বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে গত ৩১ জানুয়ারি প্রথম আলোর অর্থ ও বাণিজ্য পাতায় ‘বিনিয়োগে চমক দেখাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি ‘বিনিয়োগ কম, আশিক চৌধুরীর চমক কোথায়’ শিরোনামে অনলাইনে প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে একটি ইনফোগ্রাফিকসও ছিল।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২ ফেব্রুয়ারি রাতে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রথম আলোর করা ইনফোগ্রাফিকসসহ একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি উল্লিখিত বিদেশি বিনিয়োগ আসার পরিসংখ্যানের সময়সীমার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

 

আশিক চৌধুরীর মন্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো। তিনি লিখেছেন:
‘অন্তত প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলো বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ ছাপাবে না, এতটুকু প্রত্যাশা তো আমরা করতেই পারি। কিন্তু প্রথম আলোর এই ফটোকার্ডটা দেখে খুব হতাশ হলাম। বিনিয়োগে চমক দেখাতে না পারার তকমায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ভূষিত করেছেন উনারা। তাই প্রকাশিত প্রতিবেদনের উত্তর না দেবার আমার যে রীতি, তার বাইরে গিয়ে কয়টা কথা লিখছি।

১. তথ্যপ্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ সময়সীমার ডেটা। সেলুকাস! এই সরকার শুরুই করলো অগাস্ট থেকে (বিডার কার্যক্রম অক্টোবর থেকে)। জুলাই-অগাস্টে বিনিয়োগ না আসার দোষ নাকি আমাদের। সাইকোলজিতে ডেটা নিয়ে এই ধরনের দুষ্টামিকে ‘ফ্রেমিং ইফেক্ট’ বলে।

২. মজার ব্যাপার হচ্ছে, উনারা চাইলেই যথাযথ একটা সময়সীমা নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারতেন। যেমন জানুয়ারী ২০২৫ থেকে শুরু করে জুন ২০২৫ বা অক্টোবর ২০২৫–এর বিনিয়োগের আগের বছরের সাথে তুলনা করা যেতো। এই সময়সীমা ইন্টেরিমের জন্য আরও যুক্তিযুক্ত উইন্ডো। বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক ডেটা কিন্তু আছে। এবং ডেটা বলছে বিনিয়োগ ২০২৫-এর প্রথম নয় মাসে বেড়েছে ৮০%। শ্রীলঙ্কা বা সুদানের মতো বাংলাদেশে গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিদেশী বিনিয়োগ নেট নেগেটিভ হয়ে যায়নি (তথ্যসূত্র: বিশ্বব্যাংক)—এই তথ্যটাও দেয়া যেতো। বিনিয়োগে যতটুকু অর্জন তার সিংহভাগ কৃতিত্ব দেশের প্রাইভেট সেক্টর ও সাধারণ মানুষের। তাদেরকে স্বীকৃতিটা দিলে কি ক্ষতি হতো?

৩. ‘নিবন্ধনে ধস’ এই তথ্য সঠিক কিন্তু বিশ্লেষণ ভুল। আগের সরকারের আমলে উন্নয়নের জোয়ারের যে ন্যারেটিভ ছিলো তার হাত ধরে যথেচ্ছ নিবন্ধন হতো। প্রতিবছর নিবন্ধন বৃদ্ধি পেতো, কিন্তু একচুয়াল বিনিয়োগ আগের জায়গায়। আমরা এসব ভুয়া নিবন্ধন বন্ধ করে দিয়েছি। তাই নিবন্ধন কমেছে। আলহামদুলিল্লাহ।
প্রথম আলোকে বলছি, আপনাদের তো সেকেন্ড ক্লাস পত্রিকার মতো ক্লিকবেইট প্রকাশের দরকার নাই। দয়া করে বস্তুনিষ্ঠ খবর প্রকাশ করুন।’

 

প্রতিবেদকের বক্তব্য
১. বিনিয়োগ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন। ফলে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) থেকে শুরু করে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, রপ্তানি, প্রবাসী আয় ইত্যাদি অর্থনৈতিক সূচকের পরিসংখ্যান অর্থবছর ভিত্তিতে প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। মাসিক ও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতেও সূচকগুলোর পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছর অনুযায়ী বিনিয়োগের হিসাবটি কোনো ব্যতিক্রমী বা ‘দুষ্টুমি করে বেছে নেওয়া’ সময়পর্ব নয়। এটিকে ‘ফ্রেমিং ইফেক্ট’ বলাও কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

২. ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে (৯ মাসে) বিদেশি বিনিয়োগ ৮০ শতাংশ বেড়েছে, এটা ঠিক। কিন্তু এটা কি বিশেষ কোনো উন্নতি, তা দেখে নেওয়া যাক।

২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ১৪১ কোটি ডলার। কিন্তু মনে রাখা দরকার, ২০২৪ সালে বিদেশি বিনিয়োগ একেবারেই কমে গিয়েছিল। নেমেছিল ৭৮ কোটি ডলারে। সেখান থেকে ৬৩ কোটি ডলার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮০ শতাংশ। কিন্তু ১৪১ কোটি ডলার কি সন্তোষজনক? এ ক্ষেত্রে আগের বছরগুলো বিবেচনায় নিতে হবে। তাতে দেখা যাচ্ছে, করোনার বছর, অর্থাৎ ২০২০ সালের প্রথম ৯ মাসের চেয়েও ২০ শতাংশ কম বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ২০২৫ সালের প্রথম মাসে।

করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের প্রথমার্ধ সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছিল। দেশে ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ছিল। ৩১ মে সীমিত আকারে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত ও কলকারখানা খুলে দেওয়া হয়। ভয়াবহ ওই বছরের চেয়েও কম বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়াকে কি সাফল্য দাবি করা যায়?

আরও পড়ুন