কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া ছাড়া কোনো কাজ বাকি নেই
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:৫৬ | আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:৫৬
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা ছাড়া আর কোনো প্রস্তুতি বাকি নেই। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ। কিছু আসনে এখনো ব্যালট পাঠানো হয়নি, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সে কাজ সম্পন্ন হবে।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এত বড় পরিসরে নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এখন পর্যন্ত ভোটকে ঘিরে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ৫৫ শতাংশের নিচে বা ওপরে হতে পারে বলে তার ধারণা।
নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দেশের ১১৬টি সংসদীয় আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে। বাকি আসনগুলোতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যালট সরবরাহ সম্পন্ন হবে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আদালতের আদেশে শেষ মুহূর্তে কয়েকজন প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় কিছু আসনের ব্যালট পেপার পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে। এ কারণে ব্যালট পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব ব্যালট পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে ও পরে মোট সাত দিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে এবং আট দিন আনসার বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ এরই মধ্যে মাঠে রয়েছে এবং সেনাবাহিনীও আংশিকভাবে মোতায়েন রয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচনী আইন প্রয়োগে ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হচ্ছে, যারা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। তারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন। একই সময়ে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরাও মাঠে অবস্থান করবেন।
ইসি সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে, ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে, ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে সর্বাধিক প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি—২৮৮ জন। নিবন্ধিত ৯টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় আড়াই শতাধিক বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সারা দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি।
ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি, ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনে, মাত্র ২ জন।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য নির্বাচন ও গণভোটে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকবে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে থাকবেন ৭ হাজার ৯৯৭ জন এবং স্থানীয় পর্যায়ে থাকবেন ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন। বিদেশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৫০০।
এ ছাড়া পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোটদানে নিবন্ধন করেছেন মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে ‘আইসিপিভি’ ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১৬ জন প্রবাসী ভোটার এই মধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করেছেন বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।
