শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:৫৮ | আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:৫৮

বশেষে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক সময় যেখানে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হতো, সেখানে এখন চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক কিনেছে ৪৫১ কোটি ৯৫ লাখ মার্কিন ডলার। শুধু চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই কেনা হয়েছে ৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ বেশি। এ অবস্থায় রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয়কারীদের স্বার্থ রক্ষায় এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ নিলাম কমিটি’র মাধ্যমে ‘মাল্টিপল প্রাইস অকশন’ পদ্ধতিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনা হচ্ছে। এভাবে ডলার কেনার সময় এক ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

 

চলতি অর্থবছরের জুলাই মাস থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ডলার ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়। বছরের বিভিন্ন সময় ছড়িয়ে থাকা এ ক্রয় প্রক্রিয়া মূলত বাজারে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা এবং বিনিময় হারকে স্থিতিশীল রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।

 
 

২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একাধিক দফায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডলার কিনেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তারিখে এক দিনে ৩১ কোটি ৩০ লাখ, ৩৫ কোটি ৩০ লাখ, ২৬ কোটি ৫০ লাখ এবং সর্বশেষ জানুয়ারিতে এক দিনেই ২২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কেনার মতো নজরকাড়া লেনদেন রয়েছে।

 

এ বিষয়ে অর্থনীতি বিশ্লেষকদের অভিমত, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সক্রিয় অবস্থান দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে। বিশেষত এক সময় যখন রিজার্ভ সংকট ছিল, তখন তা পূরণে বিদেশি ঋণ ও বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে—কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেই বাজার থেকে ডলার কিনছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাজার থেকে এই পরিমাণ ডলার সংগ্রহ দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয়। এতে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে ডলারের মূল্য পতন রোধেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সাম্প্রতিক সময়ে টাকার বিপরীতে ডলারের দর স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডলার সরবরাহে উদ্বৃত্ত দেখা যাচ্ছে। ফলে রপ্তানি আয় এবং প্রবাসী আয় উৎসাহিত করতে ডলারের দর ধরে রাখার কৌশল গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ধরনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতে অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।

আরও পড়ুন